Redmi Note 11 মোবাইল রিভিউ ক্যামেরা
Redmi Note 11 ফোনটি যখন আাজারে আসে, তখন এর ৫০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা নিয়ে ব্যবহার কারীদের মধ্যৈ ব্যাপক আগ্রহ ছিল। সাধারণ স্মার্টফোন ব্যবহারকারী থেকে শুরু করে শৌখিন ফটোগ্রাফারদের জন্য এই ফোনের ক্যামেরা কেমন আউটপুট দেয়।
প্রধান ক্যামেরা এবং দিনের আলোর পারফরম্যান্স
ফোনটির মূল আকর্ষণ হলো এর ৫০ মেগাপিক্সেলের প্রাইমারি সেন্সর। দিনের আলোতে বা পর্যাপ্ত রোদে এই ক্যামেরাটি অত্যন্ত পরিষ্কার এবং উজ্জ্বল ছবি উপহার দেয়। বিশেষ করে যারা খুব বেশি এডিট করতে পছন্দ করেন না, তাদের জন্য এর কালার রিপ্রোডাকশন বেশ ভালো লাগবে, কারণ এটি ছবিকে খুব বেশি কৃত্রিম না করে ন্যাচারাল রাখার চেষ্টা করে। আপনি যখন ল্যান্ডস্কেপ বা গাছপালার ছবি তুলবেন, তখন পাতার সবুজ রং বা আকাশের নীল রং বেশ ভারসাম্যপূর্ণ দেখাবে।
আল্ট্রাওয়াইড ও ম্যাক্রো লেন্সের ভূমিকা
গ্রুপ ছবি বা বিশাল বড় কোনো স্থাপনার ছবি তোলার জন্য এর ৮ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রাওয়াইড লেন্সটি বেশ কার্যকর। যদিও মূল ক্যামেরার তুলনায় এর ডিটেইল কিছুটা কম, তবুও ১১৮ ডিগ্রি ভিউয়িং অ্যাঙ্গেল থাকার কারণে এটি ফ্রেমের অনেকখানি অংশ ক্যাপচার করতে পারে। অন্যদিকে, ২ মেগাপিক্সেলের ম্যাক্রো লেন্সটি ছোট ফুল বা পোকামাকড়ের খুব কাছ থেকে ছবি তোলার জন্য দেওয়া হয়েছে। তবে ম্যাক্রো লেন্স দিয়ে ভালো ছবি পেতে হলে হাত খুব স্থির রাখা প্রয়োজন এবং পর্যাপ্ত আলোর দরকার হয়।
প্রতিকূল আলো ও নাইট মোড চ্যালেঞ্জ
বাজেট ফোনের জন্য লো-লাইট বা রাতের ফটোগ্রাফি সবসময়ই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। Redmi Note 11-এর ক্ষেত্রেও এটি ব্যতিক্রম নয়। খুব কম আলোতে ছবি তুললে কিছুটা ঝাপসা ভাব বা নয়েজ চলে আসে। তবে শাওমি তাদের সফটওয়্যারের মাধ্যমে এতে ‘নাইট মোড’ যুক্ত করেছে। এই মোডটি ব্যবহার করলে ক্যামেরাটি কয়েক সেকেন্ড সময় নিয়ে আলোর এক্সপোজার বাড়িয়ে দেয়, ফলে অন্ধকার জায়গার ছবিও বেশ ব্যবহারযোগ্য হয়ে ওঠে। রাতের বেলা রাস্তার লাইটের নিচে ছবি তুললে এই মোডটি বেশ কাজে দেয়।
সেলফি এবং পোর্ট্রেট ফটোগ্রাফি
তরুণ প্রজন্মের কথা মাথায় রেখে এর ১৩ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরাটি অপ্টিমাইজ করা হয়েছে। ডে-লাইটে সেলফিগুলো বেশ শার্প আসে এবং স্কিন টোন খুব একটা পরিবর্তন হয় না। পোর্ট্রেট মোডের কথা বলতে গেলে, এর এজ ডিটেকশন বা সাবজেক্টের চারপাশ থেকে ব্যাকগ্রাউন্ড আলাদা করার ক্ষমতা বেশ প্রশংসনীয়। পেছনের ২ মেগাপিক্সেল ডেপথ সেন্সরটি সফটওয়্যারের সাথে মিলে ব্যাকগ্রাউন্ডে একটি সুন্দর ব্লার ইফেক্ট তৈরি করে, যা ছবিকে অনেকটা ডিএসএলআর লুক দেওয়ার চেষ্টা করে।
ভিডিওগ্রাফি ও অন্যান্য সীমাবদ্ধতা
ভিডিওর ক্ষেত্রে ফোনটি ১০৮০পি রেজোলিউশনে ৩০ ফ্রেম পার সেকেন্ডে ভিডিও করতে পারে। এর মানে হলো আপনি সাধারণ ভ্লগিং বা সোশ্যাল মিডিয়ার স্টোরি দেওয়ার জন্য ভালো ভিডিও পাবেন। তবে এতে ৪কে ভিডিও করার সুযোগ নেই এবং ইলেকট্রনিক ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন (EIS) খুব একটা শক্তিশালী না হওয়ায় হাঁটাচলা করে ভিডিও করলে কিছুটা শেকি বা কম্পন অনুভব হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে Redmi Note 11-এর ক্যামেরা সেটআপটি ব্যালেন্সড। যারা খুব বেশি জুম করে ডিটেইল খোঁজেন না এবং মূলত দিনের আলোয় সুন্দর মেমোরি ধরে রাখতে চান, তাদের জন্য এই ফোনটি একটি আদর্শ বাজেট ক্যামেরা ফোন হতে পারে।






