review

Redmi Note 11S মোবাইল ক্যামেরা রিভিউ

শাওমির রেডমি নোট সিরিজের ফোনগুলো বরাবরই সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে উন্নত ফিচার দেওয়ার চেষ্টা করে। Redmi Note 11S এর ক্ষেএেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।বিশেষ করে এর ১০৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ছিল। নিচে বিভিন্ন বিভাগে এর পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করা হলো:

১. ক্যামেরার হার্ডওয়্যার কনফিগারেশন

এই ফোনের পেছনে চারটি ক্যামেরার একটি শক্তিশালী মডিউল ব্যবহার করা হয়েছে।

  • ১০৮ মেগাপিক্সেল মেইন সেন্সর: এটি মূলত স্যামসাংয়ের তৈরি HM2 সেন্সর। এটি ছবিকে কয়েক স্তরে প্রসেস করে ডিটেইলস ধরে রাখতে সাহায্য করে।
  • ​৮ মেগাপিক্সেল আল্ট্রাওয়াইড: বড় গ্রুপ ছবি বা ল্যান্ডস্কেপ তোলার জন্য এটি বেশ কার্যকর।
  • ​২ মেগাপিক্সেল ম্যাক্রো ও ডেপথ: ছোট ছোট বস্তু এবং পোর্ট্রেট ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার করার জন্য এই দুটি সেন্সর দেওয়া হয়েছে।

 

​২. দিনের আলোর ফটোগ্রাফি:

​দিনের পর্যাপ্ত আলোতে Redmi Note 11S একজন প্রফেশনাল ক্যামেরার মতো আচরণ করে। ১০৮ মেগাপিক্সেল মোডটি ব্যবহার করলে ছবির প্রতিটি খুঁটিনাটি খুব সুন্দরভাবে ফুটে ওঠে।
​ডাইনামিক রেঞ্জ: আকাশ এবং ছায়ার মধ্যে ব্যালেন্স করার ক্ষমতা বেশ ভালো।
​কালার রিপ্রোডাকশন: এটি ছবিকে খুব বেশি কৃত্রিম করে ফেলে না, বরং প্রাকৃতিক রঙের কাছাকাছি রাখার চেষ্টা করে। তবে হালকা স্যাচুরেশন বেশি থাকায় ছবিগুলো সরাসরি ফেসবুকে দেওয়ার মতো সুন্দর দেখায়।

৩. লো -লাইট এবং নাইট মোড:

সাধারণত বাজেট ফোনের ক্যামেরা রাতে হিমশিম খায়। Note 11S-এ নয়েজ (দানা দানা ভাব) কমানোর জন্য এআই (AI) কাজ করে।
​নাইট মোড: এই মোড ব্যবহার করলে ছবি অনেক বেশি উজ্জ্বল হয় এবং অন্ধকার অংশগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তবে সাবজেক্ট খুব বেশি নড়াচড়া করলে ছবি কিছুটা ঝাপসা হতে পারে। স্থির হয়ে ছবি তুললে ভালো ফলাফল পাওয়া সম্ভব।

৪. পোট্রের্ট এবং ম্যাক্রোশট:

পোর্ট্রেট মোড: মানুষের ছবি তোলার সময় এর সফটওয়্যার চুলের ধারগুলো এবং শরীরের সীমানা খুব নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে পারে। ব্যাকগ্রাউন্ডের ‘বোকেহ’ বা ব্লার ইফেক্টটি বেশ ন্যাচারাল মনে হয়।
​ম্যাক্রো ফটোগ্রাফি: ছোট ফুল বা পোকামাকড়ের ছবি তোলার জন্য ২ মেগাপিক্সেল সেন্সরটি কাজ চালাবার মতো। তবে এজন্য প্রচুর আলোর প্রয়োজন হয়।

৫. সেলফি ক্যামেরা

সামনের ১৬ মেগাপিক্সেল ক্যামেরাটি বর্তমান প্রজন্মের রুচি অনুযায়ী তৈরি। এটি চেহারার দাগ কিছুটা ঢেকে দিয়ে স্কিন টোনকে উজ্জ্বল করে তোলে। ভিডিও কলের সময় এর ভিডিও কোয়ালিটি বেশ পরিষ্কার থাকে।

​৬. ভিডিওগ্রাফি: সীমাবদ্ধতা যেখানে

​ক্যামেরার সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো এর ভিডিও। এই ফোন দিয়ে সর্বোচ্চ 1080p @30fps এ ভিডিও করা যায়।
​সীমাবদ্ধতা: এতে কোনো ৪কে (4K) রেকর্ডিং সুবিধা নেই, যা এই বাজেটের অন্য অনেক ফোনে দেখা যায়।
​স্ট্যাবিলাইজেশন: ইলেকট্রনিক ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন (EIS) থাকায় হাঁটার সময় ভিডিও খুব বেশি কাঁপে না, যা ভ্লগারদের জন্য কিছুটা স্বস্তির।

​চূড়ান্ত রায়: আপনার কি কেনা উচিত?

​১০৮ মেগাপিক্সেলের অসামান্য ডিটেইলস।
​চমৎকার পোর্ট্রেট এবং সেলফি কোয়ালিটি।
​দিনের আলোতে ফ্ল্যাগশিপ লেভেলের ছবি।

​৪কে ভিডিও রেকর্ডিংয়ের অভাব।
​লো-লাইটে মাঝে মাঝে ছবির কোয়ালিটি ড্রপ করে।
​উপসংহার: আপনি যদি একজন ফটোগ্রাফি প্রেমী হন এবং বাজেট ১০৮ মেগাপিক্সেলের অভিজ্ঞতা নিতে চান, তবে এটি আপনার জন্য সেরা ডিল। তবে আপনি যদি প্রফেশনাল ভিডিও মেকার বা ভ্লগার হন, তবে ভিডিওর সীমাবদ্ধতা আপনার জন্য কিছুটা বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button