review

Redmi Note 12S মোবাইল ক্যামেরা রিভিউ

 

Redmi Note 12S ফোনটির সবচেয়ে বড় আকর্ষন হলো এর ক্যামেরা সেটআপ। মিড -রেঞ্জ বাজেটে শাওমি এই ফোনে যে ১০৮ মেগাপিক্সেলের প্রাইমারি সেন্সর ব্যবহার করেছে, তা সাধারণ ব্যবহারকারী থেকে শুরু করে শৌখিন ফটোগ্রাফার -সবার নজর কেড়েছে। নিচে এর ক্যামেরার প্রতিটি দিক বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:

১. ১০৮ মেগাপিক্সেল মেইন ক্যামেরা জাদু:

এই ফোনের মূল শক্তি হলো এর ১০৮ মেগাপিক্সেলের বিশাল সেন্সর। দিনের আলোতে যখন আপনি এই মোডটি ব্যবহার করে ছবি তুলবেন, তখন ছবির সূক্ষ্ম ডিটেইলগুলো খুব স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। এমনকি ছবি তোলার পর বড় করে ক্রপ বা জুম করলেও ছবির মান খুব একটা কমে না। এর কালার প্রসেসিং বেশ চমৎকার; বিশেষ করে গাছপালার সবুজ রঙ বা আকাশের নীল রঙকে এটি কিছুটা উজ্জ্বল করে তোলে, যা দেখতে বেশ সতেজ লাগে। ডাইনামিক রেঞ্জ ভালো হওয়ার কারণে কড়া রোদেও ছবিগুলো অতিরিক্ত সাদা হয়ে যায় না।

২. আল্ট্রাওয়াইড এবং ম্যাক্রো লেন্সের ব্যবহার:

ফোনটিতে থাকা ৮ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রাওয়াইড লেন্সটি বড় গ্রুপ ছবি বা বিশাল ল্যান্ডস্কেপ তোলার জন্য আদর্শ। এটি ১১৮ ডিগ্রি পর্যন্ত এলাকা কভার করতে পারে, যদিও মেইন ক্যামেরার তুলনায় এতে ডিটেইল কিছুটা কম থাকে। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করার মতো ছবি এর মাধ্যমে অনায়াসেই তোলা যায়। আর ২ মেগাপিক্সেলের ম্যাক্রো লেন্সটি ছোট ফুল বা পোকামাকড়ের খুব কাছ থেকে ছবি তোলার জন্য দেওয়া হয়েছে। এটি পর্যাপ্ত আলো থাকলে মোটামুটি কাজ চালিয়ে নেওয়ার মতো ছবি দিতে পারে।

৩. সেলফি এবং পোট্রের্ট ফটোগ্রাফি:

সামনে থাকা ১৬ মেগাপিক্সেলের পাঞ্চ-হোল সেলফি ক্যামেরাটি দিয়ে বেশ পরিষ্কার ছবি পাওয়া যায়। স্কিন টোন বা গায়ের রঙ খুব বেশি ফ্যাকাশে করে না, বরং কিছুটা ন্যাচারাল রাখার চেষ্টা করে। পোর্ট্রেট মোডে এই ফোনটি সাবজেক্ট এবং ব্যাকগ্রাউন্ডের মধ্যে পার্থক্য খুব সুন্দরভাবে বুঝতে পারে। পেছনের ক্যামেরা দিয়ে যখন পোর্ট্রেট ছবি তোলা হয়, তখন ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার বা ঝাপসা করার মানটি বেশ প্রিমিয়াম মনে হয়।

৪.লো-লাইট বা রাতের ফটোগ্রাফি:

স্বল্প আলোতে বা রাতের বেলা সাধারণ মোডে ছবি তুললে কিছুটা নয়েজ বা দানাদার ভাব লক্ষ্য করা যেতে পারে। তবে শাওমির ডেডিকেটেড ‘নাইট মোড’ ব্যবহার করলে এই সমস্যার সমাধান অনেকটা হয়ে যায়। নাইট মোড ছবির ব্রাইটনেস বাড়িয়ে দেয় এবং অন্ধকার অংশের ডিটেইলগুলো উদ্ধার করতে সাহায্য করে। এই বাজেটের ফোন হিসেবে এর রাতের পারফরম্যান্স সন্তোষজনক।

​৫. ভিডিও রেকর্ডিং ক্ষমতা:

ভিডিওর ক্ষেত্রে এই ফোনটি ১০৮০পি (1080p) রেজোলিউশনে ৩০ ফ্রেম পার সেকেন্ডে ভিডিও করতে পারে। এতে ৪কে (4K) ভিডিওর সুবিধা না থাকলেও এর ইলেকট্রনিক ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন (EIS) বেশ কার্যকর। ফলে হাঁটাচলা করে ভিডিও করার সময় ভিডিওটি খুব বেশি কাঁপে না এবং বেশ স্মুথ থাকে। ভ্লগিং বা সাধারণ ভিডিও ক্লিপ তৈরির জন্য এটি যথেষ্ট ভালো।

সামগ্রিকভাবে বলতে গেলে, Redmi Note 12S ফোনের ক্যামেরা তাদের জন্য সেরা যারা খুব বেশি দামি ফোন না কিনেও হাই-রেজোলিউশন ফটোগ্রাফি করতে চান। বিশেষ করে দিনের আলোতে এর মেইন ক্যামেরাটি ফ্ল্যাগশিপ লেভেলের ডিটেইল দিতে সক্ষম। আপনি যদি ছবি তুলতে ভালোবাসেন এবং বাজেটের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ একটি ক্যামেরা ফোন চান, তবে এটি আপনার জন্য একটি চমৎকার পছন্দ হতে পারে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button